অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:
গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই সরকারি কর্মকর্তা—সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) আবুল বাসার এবং তাঁর স্ত্রী, একই দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) গুলনাহার—মিলিয়ে গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী ‘অদৃশ্য প্রপার্টি সিন্ডিকেট’। সরকারি পদের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্বজনদের আড়ালে ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই প্রকৌশলী দম্পতির বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আবুল বাসার তাঁর সহোদর ভাই ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ-উল আলমের নামে ‘ডালাস ডেভেলপারস অ্যান্ড প্রপার্টিজ লিমিটেড’ পরিচালনা করছেন। কাগজপত্রে ভাইয়ের নাম থাকলেও মূল নেপথ্য পরিচালনায় রয়েছেন আবুল বাসার নিজেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি স্পষ্টত আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন। ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’ অনুযায়ী, সরকারের স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মচারী লাভজনক কোনো ব্যবসা বা বাণিজ্যে সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে যুক্ত হতে পারেন না। গণপূর্তের প্রকৌশলীরা যেখানে সরকারি ভবন নির্মাণকাজের বাজেট প্রাক্কলন, কাজের তদারকি ও বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকেন, সেখানে একই পদে থেকে ব্যক্তিগত আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করা ‘স্বার্থের চরম সংঘাত’ (Conflict of Interest)।
সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের এক জ্বলন্ত উদাহরণ এই ঘটনা।
ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে সহকারী প্রকৌশলী ই/এম আবুল বাসারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আয়ের উৎস, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং আর্থিক যোগাযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিরপেক্ষ অনুসন্ধানে এই সিন্ডিকেটের আসল রূপ বেরিয়ে আসে, নাকি তাঁরা অধরাই থেকে যান।