বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে জাহাজের জ্বালানি তেল চুরি, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি এবং ঠিকাদারি অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের যোগসাজশে পরিচালিত এই দুর্নীতির কেন্দ্রে রয়েছেন চাঁদপুর নদী বন্দরের টাগবোট ‘দুর্দান্ত’-এর মাস্টার নজরুল ইসলাম এবং নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের চাঁদপুর কার্যালয়ের যুগ্ম-পরিচালক মোঃ সবুর খান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে গত ১৬ মার্চ বিআইডব্লিউটিএ'র চেয়ারম্যান সরাসরি সরকারি ডিপো থেকে ডিজেল ও লুব-অয়েল সংগ্রহের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের ভিত্তিতে ১৮ মার্চ থেকে চার দফায় চাঁদপুর ডিপো থেকে মোট ৪৪ হাজার লিটার ডিজেল ও লুব-অয়েল সংগ্রহ করা হয়।
কাগজে-কলমে এই জ্বালানি বিভিন্ন নৌযানে সরবরাহ করা হয়েছে বলে দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে। হিসাব অনুযায়ী উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তমের নামে ৮ হাজার লিটার, ওয়ার্কবোট কপোত ও আড়িয়াল খাঁর নামে যথাক্রমে ৩ হাজার ও ৫ হাজার লিটার, টাগবোট দুর্দান্তের নামে ২৬ হাজার লিটার এবং এসএমবি-৩ মার্কিং বোটের নামে ২ হাজার লিটার ডিজেল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই সময়ে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম বা টাগবোট দুর্দান্ত কোনো উদ্ধার অভিযানেই অংশ নেয়নি। এমনকি এসএমবি-৩ বোটটি অলস বসিয়ে রেখে ভাড়া করা সাধারণ নৌকা দিয়ে মার্কিংয়ের কাজ চালানো হয়, যার আড়ালে গত তিন মাসে অতিরিক্ত ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকার ভাড়া বিল দেখানো হয়েছে। মূলত প্রতি লিটার ৯৫ টাকা দরে মোট ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের পুরো ৪৪ হাজার লিটার তেলই একটি চোরচক্রের মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রি করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
গোপন সিসিটিভি ফুটেজ ও অনুসন্ধানী তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ মে গভীর রাতে টাগবোট দুর্দান্তের মাস্টার নজরুল ইসলাম নিজে দাঁড়িয়ে পাহারা দিয়ে পাম্প মেশিনের সাহায্যে সরকারি ডিজেল সরাসরি চাঁদপুরের তেল ব্যবসায়ী সুমনের ট্যাংকারে স্থানান্তর করেন। নিয়ম অনুযায়ী ইঞ্জিন রুম ও জ্বালানির দায়িত্ব ড্রাইভারের হলেও মাস্টার নজরুল বেআইনিভাবে এই পাচার কার্যক্রমে সরাসরি নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ। জাহাজের কর্মচারীরা এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করে ফেললে তাঁদের ১১ লাখ টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হয় এবং পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় ক্যাডারের মাধ্যমে তাঁদের চাকরিচ্যুত ও বদলির হুমকিও দেওয়া হয়।
সরকারি সম্পত্তি ও বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল চুরির এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার নির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাঁদপুর নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক মোঃ সবুর খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ও বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে অভিযুক্ত মাস্টার নজরুল ইসলাম তেল চুরির অভিযোগ অস্বীকার করলেও ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান, যা পরোক্ষভাবে ঘটনার বাস্তবতাকে ইঙ্গিত করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ৩৮১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের আওতায় গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যার সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। বিআইডব্লিউটিএ'র মতো একটি স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠানে এত বড় পরিসরে জ্বালানি চুরির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কঠোর আইনি পদক্ষেপ দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা ও সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্যরা। তাঁদের আশঙ্কা, এখনই ব্যবস্থা না নিলে এই ধরনের সিন্ডিকেট আরও বিস্তৃত হয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের পরিধি বাড়াতে পারে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে গত ১৬ মার্চ বিআইডব্লিউটিএ'র চেয়ারম্যান সরাসরি সরকারি ডিপো থেকে ডিজেল ও লুব-অয়েল সংগ্রহের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের ভিত্তিতে ১৮ মার্চ থেকে চার দফায় চাঁদপুর ডিপো থেকে মোট ৪৪ হাজার লিটার ডিজেল ও লুব-অয়েল সংগ্রহ করা হয়।
কাগজে-কলমে এই জ্বালানি বিভিন্ন নৌযানে সরবরাহ করা হয়েছে বলে দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে। হিসাব অনুযায়ী উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তমের নামে ৮ হাজার লিটার, ওয়ার্কবোট কপোত ও আড়িয়াল খাঁর নামে যথাক্রমে ৩ হাজার ও ৫ হাজার লিটার, টাগবোট দুর্দান্তের নামে ২৬ হাজার লিটার এবং এসএমবি-৩ মার্কিং বোটের নামে ২ হাজার লিটার ডিজেল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই সময়ে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম বা টাগবোট দুর্দান্ত কোনো উদ্ধার অভিযানেই অংশ নেয়নি। এমনকি এসএমবি-৩ বোটটি অলস বসিয়ে রেখে ভাড়া করা সাধারণ নৌকা দিয়ে মার্কিংয়ের কাজ চালানো হয়, যার আড়ালে গত তিন মাসে অতিরিক্ত ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকার ভাড়া বিল দেখানো হয়েছে। মূলত প্রতি লিটার ৯৫ টাকা দরে মোট ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের পুরো ৪৪ হাজার লিটার তেলই একটি চোরচক্রের মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রি করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
গোপন সিসিটিভি ফুটেজ ও অনুসন্ধানী তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ মে গভীর রাতে টাগবোট দুর্দান্তের মাস্টার নজরুল ইসলাম নিজে দাঁড়িয়ে পাহারা দিয়ে পাম্প মেশিনের সাহায্যে সরকারি ডিজেল সরাসরি চাঁদপুরের তেল ব্যবসায়ী সুমনের ট্যাংকারে স্থানান্তর করেন। নিয়ম অনুযায়ী ইঞ্জিন রুম ও জ্বালানির দায়িত্ব ড্রাইভারের হলেও মাস্টার নজরুল বেআইনিভাবে এই পাচার কার্যক্রমে সরাসরি নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ। জাহাজের কর্মচারীরা এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করে ফেললে তাঁদের ১১ লাখ টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হয় এবং পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় ক্যাডারের মাধ্যমে তাঁদের চাকরিচ্যুত ও বদলির হুমকিও দেওয়া হয়।
সরকারি সম্পত্তি ও বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল চুরির এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার নির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাঁদপুর নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক মোঃ সবুর খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ও বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে অভিযুক্ত মাস্টার নজরুল ইসলাম তেল চুরির অভিযোগ অস্বীকার করলেও ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান, যা পরোক্ষভাবে ঘটনার বাস্তবতাকে ইঙ্গিত করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ৩৮১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের আওতায় গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যার সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। বিআইডব্লিউটিএ'র মতো একটি স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠানে এত বড় পরিসরে জ্বালানি চুরির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কঠোর আইনি পদক্ষেপ দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা ও সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্যরা। তাঁদের আশঙ্কা, এখনই ব্যবস্থা না নিলে এই ধরনের সিন্ডিকেট আরও বিস্তৃত হয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের পরিধি বাড়াতে পারে।