এবার বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিউর রহমান আজ রোববার বেলা ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, সরকার একদিকে জনগণকে ২ হাজার টাকার ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট থেকে ১০ হাজার টাকা কেটে নেওয়ার ব্যবস্থা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিউর রহমান।
সরকারের প্রতি অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত সাত মাসে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষ, শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর পড়ে। ফলে তাদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে যায়। সরকারের সমালোচনা করে আতিউর রহমান বলেন, ‘সরকার মাত্র সাত মাস ক্ষমতায় এসেছে–এই যুক্তিতে জনগণের বিরুদ্ধে একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে না। জ্বালানি তেলের দাম কেন বাড়ানো হয়েছে, কার স্বার্থে বাড়ানো হয়েছে, জনগণের কাছে সরকারকে এর জবাব দিতে হবে।’
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের কৃষক কার্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। বাস্তবে সরকার জনগণের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হচ্ছে। আতিউর রহমান বলেন, ‘২ হাজার টাকার ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে জনগণের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা কেটে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ তার দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির দাম বাড়ানোর ফলে নিম্নআয়ের মানুষকে একদিকে সামান্য সহায়তা দেওয়া হলেও অন্যদিকে তাদের ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কৃষিতেও পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, বাংলাদেশের কৃষিকাজে ডিজেলের ব্যবহার ব্যাপক। ডিজেলের দাম বাড়লে সেচ, পরিবহনসহ কৃষির বিভিন্ন খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। এতে কৃষকের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়বে ভোক্তার ওপরও। আতিউর রহমান আরও বলেন, কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়লেও তারা যদি তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম না পান, তাহলে কৃষিকাজে আগ্রহ কমতে পারে। তার দাবি, শুধু ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে প্রতিবছর কৃষকদের অতিরিক্ত কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হতে পারে।
কৃষিতে সারসংকট নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, একদিকে কৃষকের জন্য কার্ড দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা–কর্মীদের সার ডিলারশিপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে সার নিয়ে সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সরকারের ‘সাত মাসের শিশু’ বক্তব্যের সমালোচনা করে শ্রমিক নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ কোনো শিশুর হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়নি। যদি আপনারা শিশু হয়ে থাকেন, তাহলে ক্ষমতায় এলেন কীভাবে?’
তিনি বলেন, জনগণ সরকারকে একটি ম্যান্ডেট দিয়েছে; সেই ম্যান্ডেটের অর্থ জনগণের অধিকার ও সমস্যার প্রতি জবাবদিহি নিশ্চিত করা। দীর্ঘদিন জনগণের সমস্যা উপেক্ষা করে সরকার পরিচালনা করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জ্বালানি তেলের দাম অবিলম্বে কমানোর দাবি জানিয়ে আতিউর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে থাকলে তার সুফল জনগণকে দিতে হবে। অবিলম্বে তেলের দাম কমাতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে রিকশাচালক, পরিবহন শ্রমিক, নির্মাণশ্রমিক, হোটেল শ্রমিক, দোকান কর্মচারী ও পোশাকশ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। অথচ তাদের আয় একই হারে বাড়েনি।