শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম শরীফের বিরুদ্ধে ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি এসি ক্রয়ের টেন্ডারে জালিয়াতি ও অনিয়ম করে প্রাণ আরএফএল-কে কাজ পাইয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের খবর পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ আছে মনজুরুল আলম শরীফ ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল।
সম্প্রতি এসি ক্রয়ের টেন্ডার আহ্বান করা হলে প্রাণ আরএফএল, মজিদ এন্ড সন্স এবং আমানত এন্টারপ্রাইজ নামে তিনটি কোম্পানি দরপত্র দাখিল করে। দরপত্র মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ভিআরএফএসির অথরাইজেশন যাচাইয়ের জন্য দরপত্র দাখিল করা তিন প্রতিষ্ঠানের ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির নিকট ইমেইলে পাঠানো হয়। আমানত এন্টারপ্রাইজ এবং মজিদ এন্ড সন্স এর অথরাইজেশনের সত্যতা নিশ্চিত করে নির্বাহী প্রকৌশলীর ইমেইলে জবাব আসে। মজিদ এন্ড সন্স এবং আমানত এন্টারপ্রাইজ নামে প্রতিষ্ঠান দুইটির ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি অথরাইজেশন লেটারের সত্যতা নিশ্চিত করে মেইল দেয়।
অন্যদিকে প্রাণ আরএফএল এর অথরাইজেশনের ব্যাপারে ম্যানুফ্যাকচার কোম্পানি DunHum Bush জবাব দেয় প্রাণ আরএফএল’র অথরাইজেশন সঠিক নয়, টেন্ডারে উল্লিখিত প্রকল্পের জন্য তাদেরকে অথরাইজেশন দেওয়া হয়নি। এই জালিয়াত ধরা পড়ার পর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম মোটা অংকের অর্থের লোভে প্রাণ-আরএফএল’র সাথে যোগাযোগ করে অফিসের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেন।
পরবর্তীতে নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম এবং প্রাণ-আরএফএল’র মধ্যে লেনদেনের বিষয়ে সেটেলমেন্ট হওয়ার পর প্রাণ-আরএফএল অফিস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনরায় আরও একটি ইমেইলের মাধ্যমে যাচাইয়ের জন্য ম্যানুফ্যাকচার কোম্পানিকে পাঠানো হয়। যোগাযোগের ভিত্তিতে ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি প্রাণ আরএফএল’র অথরাইজেশন দেয়। এভাবেই নিয়মনীতি ও অফিসিয়াল গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে নোয়া (নো অবজেকশন লেটার) দেন।
প্রাণ আরএফ এল এর অথরাইজেশন অস্বীকার করে ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির দেওয়া ইমেইল।
একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, মনজুরুল আলম ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ঢাকা মেট্রো অঞ্চলে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন উন্নয়নকাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বেআইনিভাবে কমিশন দাবি করা হচ্ছে। কমিশন না দিলে ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী কাজের বিপরীতে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করছেন। এ কারণে টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, টেন্ডারে অংশ নেওয়ার পর কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনের বিষয়টি সামনে আসে। তাদের দাবি, নির্ধারিত কমিশন দিতে অনাগ্রহী হলে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। ঠিকাদাররা বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য সাবেক কর্মস্থল নেত্রকোনায় তাকে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। সার্বিক বিষয়ে মন্তব্যের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম শরীফের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।