নিজস্ব প্রতিবেদক
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে আগামী ১৮ অক্টোবর শুনানিতে উপস্থিত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক নথিপত্র জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তাঁকে এ শুনানিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, ১২ অক্টোবর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আসাদুজ্জামান রিপনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে প্রধান প্রকৌশলীকে শুনানিতে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। এর আগে, গত ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য, সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক নথিপত্র সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্রসহ উপস্থিত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
১৮ অক্টোবর বিকেল ৩টায় শুনানি
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৮ অক্টোবর বিকেল ৩টায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. আব্দুল মতিনের দপ্তরে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভবন-৫-এর দ্বিতীয় তলায় ২০৯ নম্বর কক্ষে এ শুনানি আয়োজনের কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুনানিতে প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কী বক্তব্য দেন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে কী তথ্য উঠে আসে, তা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকে নজর
গণপূর্ত অধিদপ্তর সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। এ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা এবং তদন্তের ফলাফল স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ করা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ।
খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি কী তথ্য-প্রমাণ পায়, সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে কী উঠে আসে এবং শুনানিতে তাঁর বক্তব্য কী হয়—এসব বিষয় এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে তদন্ত কমিটি গঠন বা শুনানিতে উপস্থিত থাকার অনুরোধকে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, তথ্য-প্রমাণ, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য এবং তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল বিবেচনা করা প্রয়োজন।
স্বচ্ছ তদন্তের প্রত্যাশা
জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এ বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি ও চূড়ান্ত ফলাফল যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রকাশ করা হলে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। অভিযোগের পক্ষে বা বিপক্ষে থাকা তথ্য ও নথিপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বক্তব্য এবং তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। শুনানির ফলাফল বা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া না পর্যন্ত বিষয়টিকে তদন্তাধীন হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।