২০২৬ সালের ৭ থেকে ১৫ জুন যুক্তরাজ্যের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের (সিপিআইটি) তিনজন কর্মকর্তা বাংলাদেশে একটি তথ্য অনুসন্ধান মিশন পরিচালনা করেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং একই বছরের আগস্টের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করাই ছিল এই মিশনের উদ্দেশ্য।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ইউকে হোম অফিস) কর্তৃক ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ‘রিপোর্ট অব আ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশ: পলিটিক্যাল সিচুয়েশন, অক্টোবর ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান) সঙ্গে সাক্ষাৎকার উল্লেখ করা হয়েছে। সিপিআইটির তিনজন কর্মকর্তা এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তরের দুজন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে যেটি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনে ৮ জুন নেওয়া হয়েছিল। প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
প্রথমে আমাকে অতীতের কথা বলতে হবে। আমি গুমের শিকার হয়েছিলাম এবং আট বছর আয়নাঘরে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় আটক ছিলাম। বিষয়টি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমার বর্তমান কাজের পেছনে এই অভিজ্ঞতার প্রভাব রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের পর আমি মুক্তি পাই। আমার স্ত্রী ও মা ছাড়া আর কেউ ভাবেননি যে আমাকে আবার দেখা যাবে। তারা অবশ্য আশা ছাড়েননি।
এই অভিজ্ঞতার কারণে আমি জানি, রাজনৈতিক ভিন্নমত পোষণকারী হিসেবে এমন একটি সরকারের অধীনে থাকা কেমন, যার ক্ষমতার ওপর কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই।
আমি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। আমার চেম্বারের প্রধান ব্যারিস্টার এ রাজ্জাক বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রায় রোমান সম্রাটের মতো ক্ষমতা দিয়েছে। আমরা ক্ষমতার ভারসাম্য, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা চাই।
বর্তমান আইনি কাঠামো অল্প কয়েকজনের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছে। এ অবস্থা বদলাতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রকৃত জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। আমরা চাই, এ কাজ সম্পন্ন হোক।
আমি ঢাকা পূর্বাঞ্চলের মিরপুরের সংসদ সদস্য। এটি শহরের সবচেয়ে দরিদ্র ও অবহেলিত এলাকাগুলোর একটি। আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা সেখানেই। অনেকে মনে করেন, মিরপুরে শুধু অভিজাত ও ধনী মানুষের বসবাস। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
সেখানে অনেক মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান দেশের অনেক গ্রামীণ এলাকার চেয়েও খারাপ। মানুষ আমাকে নির্বাচিত করেছেন, কারণ আমি প্রকৃত পরিবর্তন এবং ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের কথা বলেছি। বর্তমান ব্যবস্থায় মানুষ সন্তুষ্ট নয়।
সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি আমি বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা। এ দায়িত্বে আন্তর্জাতিক রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। দলের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব আমার ওপর রয়েছে।
আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো পুরো ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। সংবিধান ও দণ্ডবিধির বর্তমান কাঠামো নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, জুলাই সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হবে। তা বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতি বদলাবে না।
বর্তমানে বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বেসামরিক প্রশাসন নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। সহজভাবে বললে, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে কাজ করার কথা, সেভাবে কাজ করছে না।