সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান EDCL-এ অনিয়মের অভিযোগ, দুদকে তদন্তের আবেদন

আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০৪:০৫:২৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০৪:০৫:২৩ অপরাহ্ন


১০০ টন প্যারাসিটামল কাঁচামালের মান পরীক্ষার প্রতিবেদন পরিবর্তন এবং টেন্ডার নং ৮৭-এ ৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ

দেশের একমাত্র সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে (EDCL) কাঁচামাল ক্রয় ও টেন্ডার কার্যক্রমে অনিয়ম, কারসাজি এবং আর্থিক ক্ষতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্তের আবেদন করেছেন পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানানো এক নাগরিক।

গত ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর দাখিল করা অভিযোগপত্রে প্যারাসিটামল বিপি কাঁচামাল ক্রয়, গ্লাস ভায়াল সরবরাহের টেন্ডার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, M/s Pharhome Trading Company-এর সরবরাহ করা ১০০ টন প্যারাসিটামল বিপি কাঁচামালের পরীক্ষায় মানের ঘাটতি পাওয়া যায়। পরে EDCL-এর মান নিয়ন্ত্রণ (QC) বিভাগ কাঁচামালটি বাতিল করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক বছর পর আগের নেতিবাচক পরীক্ষার প্রতিবেদন বাতিল করে নতুন প্রতিবেদন তৈরি করা হয় এবং কাঁচামালটিকে উত্তীর্ণ হিসেবে দেখানো হয়। এরপর দ্রুত ওই কাঁচামাল উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। অভিযোগটি সত্য হলে সরকারি ওষুধের গুণগত মান ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, টেন্ডার নম্বর ৮৭-এর গ্লাস ভায়াল ক্রয় নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উন্মুক্ত দরপত্রে মোট আটটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। কারিগরি মূল্যায়নে তিনটি প্রতিষ্ঠানের নমুনা অনুমোদিত ও বৈধ এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নমুনা অনুত্তীর্ণ হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বৈধ প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে কয়েকটিকে বাদ দিয়ে শুধু M/s Marks Corporation-এর আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্ত করা হয়। এতে প্রতিযোগিতা ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি।

এ ঘটনায় সরকারের আনুমানিক ২ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের আশঙ্কার কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি নির্ধারণে দরপত্রের নথি, বাজারদর ও মূল্যায়ন প্রতিবেদন যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া টেন্ডার নম্বর ৩১/২০২৫-এর Desogestrel USP ক্রয়সংক্রান্ত বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান কাজ না পাওয়ার পর তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তাঁর একান্ত সচিবকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে ক্রয়প্রক্রিয়ার কোনো প্রভাব বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে EDCL-এর QC বিভাগের জিএম ইসমাইল হোসেন, Procurement বিভাগের ডিজিএম মানভুবন মারমা, QC কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন এবং Purchase কর্মকর্তা জুয়েলের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনার অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদ ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাঁদের বৈধ আয়ের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়।

দুদকে দেওয়া আবেদনে টেন্ডার নম্বর ৮৭-এর কার্যাদেশ স্থগিত, দরপত্র মূল্যায়ন ও উন্মুক্তকরণ প্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই, প্যারাসিটামল কাঁচামালের মূল ও পরবর্তী পরীক্ষার প্রতিবেদন সংরক্ষণ এবং টেন্ডার নম্বর ৩১/২০২৫-এর পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য : ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান
সম্পাদক : তোফাজল আহমেদ ফারুকী
ব্যাবস্থাপনা সম্পাধক : আব্দুল্লাহ রানা সোহেল
প্রকাশক : মোঃ সোহেল রানা
বার্তা সম্পাদক : মোঃ আব্দুল কাদের জিলানী
প্রধান প্রতিবেদক : হাসিবুর রহমান হাসিব 

যোগাযোগের ঠিকানা :

লাবিনা এপার্টমেন্টে # বাড়ি এ-৩, রোড # ০৮, সেক্টর #০৩,উত্তরা
উত্তরা মডেল টাউন -ঢাকা -১২৩০, বাংলাদেশ

মোবাইল :  ০১৭১৭-৬৭৬৬৬৪

ই-মেইল :  dailyvoicenews247@gmail.com