বিশেষ প্রতিনিধি : মাহফুজুর রহমান
লংগদুতে অবৈধ করাত কলের দৌরাত্ম্য: বনজ সম্পদ বিলীন, চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা।
রাঙামাটি: পার্বত্য জেলা রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা করাত কলের লাগামহীন দৌরাত্ম্যে পাহাড়ের মূল্যবান বনজ সম্পদ আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে এসব করাত কল পরিচালিত হওয়ায় এলাকায় চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নেই বৈধ কাগজ, স্বীকারোক্তি মালিক সমিতির
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লংগদুতে পরিচালিত একটি করাত কলেরও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বা বৈধ লাইসেন্স নেই। বিষয়টি উদ্বেগজনকভাবে স্বীকার করেছেন লংগদু উপজেলা করাত মিল মালিক সমিতির সভাপতি রহমত উল্লাহ। তিনি সরাসরি বলেন, "করাত মিলের বৈধ কাগজ কারো নেই।"
বৈধতা না থাকা সত্ত্বেও নির্বিচারে পাহাড় ও বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে কাঠ সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ বন কর্তন পরিবেশের ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে নষ্ট করছে।
অক্সিজেন সংকট ও পরিবেশ ঝুঁকি বৃদ্ধি:
এ বিষয়ে উল্টাছড়ি রেঞ্জের এক কর্মকর্তা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, অব্যাহত বন কর্তনের ফলে এলাকায় অক্সিজেনের ঘাটতিসহ নানা পরিবেশগত সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, "এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে লংগদুতে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।"
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবের সুযোগে অবৈধ করাত কল মালিকরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরও চালু মিল, প্রশ্ন প্রশাসনে:
এর আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কয়েকটি অবৈধ করাত কল মালিককে জরিমানা করা হয় এবং কিছু মিল সিলগালাও করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো পুনরায় চালু হয়েছে। ফলে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলছেন—কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে আবারও চালু হচ্ছে এই অবৈধ করাত কলগুলো? প্রশাসনের এই শৈথিল্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ইউএনও’র পদক্ষেপ: বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ
এ প্রসঙ্গে লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, "আমরা বন বিভাগকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছি। পাশাপাশি সকল অবৈধ করাতকলের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে অনুরোধ করেছি।" তিনি আরও জানান, বন বিভাগ কাজ করছে এবং পরিবেশ ও বন রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
অন্যদিকে, স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশ সচেতন মহল পাহাড় ও বনজ সম্পদ রক্ষায় দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, প্রশাসনের আশ্বাস যদি বাস্তবে দ্রুত প্রতিফলিত না হয়, তবে লংগদুতে অদূর ভবিষ্যতে পরিবেশ বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। দ্রুত এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ না হলে লংগদু বনশূন্য হয়ে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
লংগদুতে অবৈধ করাত কলের দৌরাত্ম্য: বনজ সম্পদ বিলীন, চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা।
রাঙামাটি: পার্বত্য জেলা রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা করাত কলের লাগামহীন দৌরাত্ম্যে পাহাড়ের মূল্যবান বনজ সম্পদ আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে এসব করাত কল পরিচালিত হওয়ায় এলাকায় চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নেই বৈধ কাগজ, স্বীকারোক্তি মালিক সমিতির
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লংগদুতে পরিচালিত একটি করাত কলেরও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বা বৈধ লাইসেন্স নেই। বিষয়টি উদ্বেগজনকভাবে স্বীকার করেছেন লংগদু উপজেলা করাত মিল মালিক সমিতির সভাপতি রহমত উল্লাহ। তিনি সরাসরি বলেন, "করাত মিলের বৈধ কাগজ কারো নেই।"
বৈধতা না থাকা সত্ত্বেও নির্বিচারে পাহাড় ও বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে কাঠ সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ বন কর্তন পরিবেশের ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে নষ্ট করছে।
অক্সিজেন সংকট ও পরিবেশ ঝুঁকি বৃদ্ধি:
এ বিষয়ে উল্টাছড়ি রেঞ্জের এক কর্মকর্তা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, অব্যাহত বন কর্তনের ফলে এলাকায় অক্সিজেনের ঘাটতিসহ নানা পরিবেশগত সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, "এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে লংগদুতে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।"
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবের সুযোগে অবৈধ করাত কল মালিকরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরও চালু মিল, প্রশ্ন প্রশাসনে:
এর আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কয়েকটি অবৈধ করাত কল মালিককে জরিমানা করা হয় এবং কিছু মিল সিলগালাও করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো পুনরায় চালু হয়েছে। ফলে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলছেন—কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে আবারও চালু হচ্ছে এই অবৈধ করাত কলগুলো? প্রশাসনের এই শৈথিল্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ইউএনও’র পদক্ষেপ: বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ
এ প্রসঙ্গে লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, "আমরা বন বিভাগকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছি। পাশাপাশি সকল অবৈধ করাতকলের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে অনুরোধ করেছি।" তিনি আরও জানান, বন বিভাগ কাজ করছে এবং পরিবেশ ও বন রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
অন্যদিকে, স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশ সচেতন মহল পাহাড় ও বনজ সম্পদ রক্ষায় দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, প্রশাসনের আশ্বাস যদি বাস্তবে দ্রুত প্রতিফলিত না হয়, তবে লংগদুতে অদূর ভবিষ্যতে পরিবেশ বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। দ্রুত এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ না হলে লংগদু বনশূন্য হয়ে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।