কর্মঘণ্টার বাইরে রাত ৮টার পর ন্যাশনাল ব্যাংকের মাধ্যমে ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা লেনদেনের ঘটনায় ব্যাংকটির ১৬ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ৪ আগস্ট সশরীরে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠির সূত্রে সোমবার (৩ আগস্ট) এ তথ্য জানা গেছে।
দুদক সূত্র জানায়, মেসার্স ইমপ্যাক্ট কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এসব কর্মকর্তাকে তলব করা হয়েছে।
তলব করা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—ন্যাশনাল ব্যাংকের দিলকুশা শাখার এসভিপি আশরাফ উদ্দিন আহমেদ, কোম্পানি সেক্রেটারি মো. কায়সার রশীদ, ইভিপি ও বনানী শাখার ব্যবস্থাপক অলোক কুমার বিশ্বাস, বনানী শাখার এসভিপি খান মুহাম্মদ মোয়েদ আজিজসহ ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
দুদক জানায়, ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখায় কর্মঘণ্টার বাইরে রাত ৮টার পর ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা লেনদেনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ব্যাখ্যা দিতে ওই শাখার ব্যবস্থাপককে এর আগে তলব করেছিল হাইকোর্ট। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই দুদক অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর ন্যাশনাল ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখা থেকে রাত ৮টার পর ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এই অর্থ দেওয়া হয় ইনফ্রাটেক কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের কর্ণধার আলী হায়দার রতনকে।
ওইদিন বিকেলে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় গ্রাহকের ঋণ নবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে অনুমোদনের বিষয়টি শাখায় পাঠানো হয়। এরপর রাত ৮টা ২৩ মিনিট থেকে ৯টা ৪ মিনিটের মধ্যে ওই অর্থ উত্তোলন করা হয়।
দুদক সূত্র আরও জানায়, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ব্যাংকের ৪৭৫তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় ইনফ্রাটেক কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের ঋণ নবায়নের প্রস্তাব ওঠে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, গ্রাহকের সীমাতিরিক্ত ৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার ঋণপত্র খোলা হয়েছে এবং অন্য ব্যাংকে থাকা ঋণও খেলাপি অবস্থায় রয়েছে। ঋণ নবায়নের অনুমোদনের পরই গ্রাহক ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ পান। এ ঘটনায় লেনদেনের নিয়ম, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে দুদক।